শতকোটি প্রনামান্তে
হুজুরে নিবেদন এই–
মাপ করবেন খাজনা এ সন
ছিটেফোঁটাও ধান নাই।
মাঠেঘাটে কপাল ফাটে
দৃষ্টি চলে যত দূর
খাল শুক্নো বিল শুক্নো
চোখের কোলে সমুদ্দুর।
হাত পাতব কার কাছে কে
গাঁয়ের সবার দশা এক
তিন সন্ধে উপোষ দিলাম
আজ খাচ্ছি বুনো শাক।
পরনে যা আছে তাতে
ঢাকা যায় না লজ্জা
ঘটি বাটি বেচেছি সব
আছে বলতে ছিল যা।
এ দুর্দিনে পাওনা আদায়
বন্ধ রাখুন, মহারাজ
ভিটেতে হাত দেয় না যেন
পাইক বরকন্দাজ।
আমরা কয়েক হাজার প্রজা
বাস করি এই মৌজায়
সবাই মিলে পথ খুঁজছি
কেমন করে বাঁচা যায়।
পেত জ্বলছে ক্ষেত জ্বলছে
হুজুর, জেনে রাখুন
খাজনা এবার মাপ না হলে
জ্বলে উঠবে আগুন।
Related Articles
গোলামের গর্ভধারিণী
আপনাকে দেখিনি আমি; তবে আপনি আমার অচেনা নন পুরোপুরি, কারণ বাঙলার মায়েদের আমি মোটামুটি চিনি, জানি। হয়তো গরিব পিতার ঘরে বেড়ে উঠেছেন দুঃক্ষিণী বালিকারূপে ধীরেধীরে; দুঃক্ষের সংসারে কুমড়ো ফুলের মতো ফুটেছেন ঢলঢল, এবং সন্ত্রস্ত ক’রে তুলেছেন মাতা ও পিতাকে। গরিবের ঘরে ফুল ভয়েরই কারণ। তারপর একদিন ভাঙা পালকিতে চেপে দিয়েছেন পাড়ি, আর এসে উঠেছেন আরেক […]
তাহারে খুঁজিয়া বেড়াই
আমি তাহারে খুঁজিয়া বেড়াই আনমনে, তাহার আঁখি প্রাঙ্গণে তবু সে বুঝিতে পারে না, তাহারে বুঝিতে দেই না আমি আপন হৃদয়ে কেবল তাহারই বসবাস, তাহারই পদচারণায় মুখরিত স্মৃতির সহবাস । ভুবন ভুলিয়া, তাহার চুম্বন ওষ্ঠে মাখিয়া খুঁজিয়াছি আমি সিন্ধুমালায়, নীল অতলে… তব তাহার রূপ-যৌবনের দ্বিতীয়া নাহি অতৃপ্ততার হৃদ-সাগরে ।। চন্দ্রিমার সীমা চৌচির্ণ করিয়া মধু খুঁজিয়া বেড়াই […]
কালো কৃষকের গান
দুঃখের এক ইঞ্চি জমিও আমি অনাবাদী রাখবো না আর আমার ভেতর সেখানে বুনবো আমি তিন সারি শুভ্র হাসি, ধৃতপঞ্চইন্দ্রিয়ের সাক্ষাৎ আনন্দময়ী একগুচ্ছ নারী তারা কুয়াশার মতো ফের একপলক তাকাবে এবং বোলবে,‘তুমি না হোমার? অন্ধ কবি ছিলে? তবে কেন হলে চক্ষুষ্মান এমন কৃষক আজ? বলি কী সংবাদ হে মর্মাহত রাজা? এখানে আঁধার পাওয়া যায়? এখানে কি […]
