শতকোটি প্রনামান্তে
হুজুরে নিবেদন এই–
মাপ করবেন খাজনা এ সন
ছিটেফোঁটাও ধান নাই।
মাঠেঘাটে কপাল ফাটে
দৃষ্টি চলে যত দূর
খাল শুক্নো বিল শুক্নো
চোখের কোলে সমুদ্দুর।
হাত পাতব কার কাছে কে
গাঁয়ের সবার দশা এক
তিন সন্ধে উপোষ দিলাম
আজ খাচ্ছি বুনো শাক।
পরনে যা আছে তাতে
ঢাকা যায় না লজ্জা
ঘটি বাটি বেচেছি সব
আছে বলতে ছিল যা।
এ দুর্দিনে পাওনা আদায়
বন্ধ রাখুন, মহারাজ
ভিটেতে হাত দেয় না যেন
পাইক বরকন্দাজ।
আমরা কয়েক হাজার প্রজা
বাস করি এই মৌজায়
সবাই মিলে পথ খুঁজছি
কেমন করে বাঁচা যায়।
পেত জ্বলছে ক্ষেত জ্বলছে
হুজুর, জেনে রাখুন
খাজনা এবার মাপ না হলে
জ্বলে উঠবে আগুন।
Related Articles
কবিতার কসম খেলাম
১৬. কবিতার কসম খেলাম আমি আর আহত হবো না, কোনো কিছুতেই আমি শুধু আর আহত হবো না। যে নদী জলের ভারে হারাতো প্লাবনে এখন শ্রাবণে সেই জলের নদীর বুকে জলাভাবে হাহাকার দেখে আমি আহত হবো না। সবুজ সবুজ মাঠ চিরে চিরে কৃষকের রাখালের পায়ে গড়া দু’পায়া পথের বুকে আজ সেই সরল সুন্দর সব মানুষের চিতা […]
এসো, আমরা প্রেমের গান গাই
রাজা দেখলাম, রানী দেখলাম এবার একটু মানুষের কাছে বসতে চাই। এসো আমরা প্রেমের গান গাই। এসো, আমাদের প্রিয় কবির কাছে যাই, তাকে বলি: আপনি গাছ ফুল পাখি ভালবাসেন আপনি মানুষ ভালবাসেন- ‘প্রেমের গান গাইতে আমাদের গলা কেঁপে যায়; আপনি আমাদের গান শেখান!’ রাজা দেখলাম, রানী দেখলাম এবার আমরা আমাদের প্রিয় কবির কাছে ফিরে যাবো। তিনি […]
অপরূপ বাগান
চলে গেলে- তবু কিছু থাকবে আমার : আমি রেখে যাবো আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি। জল নেমে গেলে ডাঙ্গা ধরে রাখে খড়কুটো, শালুকের ফুল : নদীর প্রবাহপলি, হয়তো জন্মের বীজ, অলঙ্কার- অনড় শামুক ! তুমি নেমে গেলে এই বক্ষতলে সমস্ত কি সত্যিই ফুরোবে ? মুখের ভিতরে এই মলিন দাঁতের পংক্তি- তা হলে […]
