স্তব্ধ হল দশ দিক নত করি আঁখি—
বন্ধ করি দিল গান যত ছিল পাখি।
শান্ত হয়ে গেল বায়ু, জলকলস্বর
মুহূর্তে থামিয়া গেল, বনের মর্মর
বনের মর্মের মাঝে মিলাইল ধীরে।
নিস্তরঙ্গ তটিনীর জনশূন্য তীরে
নিঃশব্দে নামিল আসি সায়াহ্নচ্ছায়ায়
নিস্তব্ধ গগনপ্রান্ত নির্বাক্ ধরায়।
সেইক্ষণে বাতায়নে নীরব নির্জন
আমাদের দুজনের প্রথম চুম্বন।
দিক্-দিগন্তরে বাজি উঠিল তখনি
দেবালয়ে আরতির শঙ্খঘণ্টাধ্বনি।
অনন্ত নক্ষত্রলোক উঠিল শিহরি,
আমাদের চক্ষে এল অশ্রুজল ভরি।
Related Articles
সেই সব নিজস্ব রাত্রিগুলি
যে রাত ‘পাশাপশি বসিবার বনলতা সেন’ সে রাত আমার নয়, সে রাত অন্য কারো। প্রনয়ীর প্রথম পরশ ছুঁয়ে দ্বিধাগ্রস্ত চুপিচুপি চোখের উপকূলে জোয়ারের মতো স্বপ্নালু হেঁটে আসা যে রাত আচ্ছন্ন আকাশের নিচে সে রাত আমার নয়, সে রাত অন্য কারো। আকাশের মাঠে নক্ষত্র পাখিদের কোলাহলে যে রাত নেমে আসে হেমন্তের শিশিরের প্রথম অভিসারের মতো নিরব […]
ময়ূর দিয়েছে
একটি ময়ুর তার পেখমের সবটুকু অভ্র ও আবীর দিয়েছে আমাকে। একটি ময়ূর তার হৃদয়ের বিছানা বালিশে মশারির টাঙানো খাটে, দরজায়, জানালায়, নীল আয়নায় অতিথিশালার মতো যখন-তখন এসে ঘুমোবার, হেঁটে বেড়াবার সুখটুকু, স্বাধীনতাটুকু সোনার চাবির মতো হাতে তুলে দিয়েছে স্বেচ্ছায়। এটোঁ কলাপাতা ঘেঁটে অকস্মাৎ জাফরাণের ঘ্রাণ পেয়ে গেলে ভিখারীরা যে রকম পরিতৃপ্ত হয়, সে রকমই সুখ […]
স্পর্শ
তোমার শরীরে হাত আকাশ নীলিমা স্পর্শ করে ভূমণ্ডল ছেয়ে যায় মধ্যরাতে বৃষ্টির মতন মুহূর্তে মিলায় দুঃখ, দুঃখ আমাকে মিলায় জলের অতল থেকে জেগে ওঠে মগ্ন চরাচর দেশ হয় দেশ, নদী হয় পুনর্বার নদী নৈঃশব্দ্য নিরুণ হাতে করতালি দেয় নিসর্গ উন্মুক্ত করে সারাদেহে নগ্ন শরীর কোন খানে রাখি তুলে দেহের বিস্তার তোমার শরীরে হাত দীর্ঘতর আমার […]

