কবিতা

আমরা আবহমান ধ্বংস ও নির্মানে

সেদিন ছিল শনিবার
আমার মনে ঘুংঘুর বেজে উঠল হঠাৎ
তুমি তাহলে নিশ্চয়ই আসছো ।
তুমি মেজেন্টা ভালোবাস, শাড়িতে সেই রঙ
তুমি বর্ষা দেখতে পাগল,তাই চোখের চার পাশে কাজল পরা মেঘ ।
বিছানা একটু নরম না হলে লাগবে
তাই আচলের ঘের কমিয়ে তুলতুলে দুটো বালিশ
এভাবে দ্বিকবিদ্বিক জেগে বসে
চাঁদ চলে গেল দখিনের পথে
তাঁর মুচকি হাসির ওড়নাটাকে আমার মাথায় ঘোমটার মতো পরিয়ে
জানি ভাঁজ পড়েছে তোমার ভুরুতে
ভাবছ তোমাকে কাছে টানার গরজে
এসব জেনো এলেবেলে বানানো কথার হাতছানি ।

আবার ভুল বুঝছো আমাকে
আমি যখন নিজেকে গড়ি ,তখন একই সঙ্গে গড়া হতে থাকে তোমার প্রতিমা ।

কি দিয়ে গড়ো তুমি আমাকে ?
অক্ষরে,ছন্দে,উপমায়,অলংকারে,সাদা কাগজে কালো কালির আঁচড়ে
কিন্তু তোমার মতো অমরত্বের তৃষ্ণায় আমি কাতর নই শুভংকর
আমি শুধু তোমাকেই চাই ,তুমি যেমন ঠিক তেমনই ।
তুমি বলবে”আমি যে বড়ো ভাঙা চোরা নন্দিনী ,আমি অসমাপ্ত পাণ্ডলিপির মতো কাঁটা ছেড়ায় জীর্ণ”
হোক না, সেই তুমিই আমার স্বপ্ন ।

তোমাকে ঈর্ষা করতে ইচ্ছে করে
নন্দিনী,কেন না এখনো তুমি কতো সরল রয়ে গেছ তুমি,
এখনো স্বপ্ন শব্দটাকে উচ্চারন করতে পারো কতো মমতা দিয়ে
যেন সত্যিই ওর অর্থ আছে কোনো …
যেন মন্ত্রের মতো ক্ষমতাবান …

অথচ নিজের খাঁ খাঁ মাঠের দৈন্যে যখন আমি দীর্ন
আমার রক্ত স্পন্দনের মধ্যে তুমিই নাচিয়ে দিয়েছিলে এই শব্দ

স্বপ্নের কথা উঠলেই নাড়ির ভিতর ঘুলিয়ে উঠে ঘৃনা
স্বপ্ন যে এত বেঈমান ,
সে যে অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো কেবলই এক যুদ্ব থেকে আরেক যুদ্বের মারাত্বক রঙ্গমঞ্চে
আগে জানলে ওর ছায়ার আটচল্লিশ হাত দূর দিয়ে ,
ওর লাইসেন্স,পাসপোর্ট ,আইডেন্টিটি কার্ড সব কেটে ছিঁড়ে …

এ তুমি কার গলায় কথা বলছ শুভংকর ?

তোমার কি সন্দেহ হচ্ছে, কোন অপদেবতার।

আগে কখনো তোমার গলায় শুনিনি এমন নদীর পার ভাঙ্গার শব্দ …।

একটূ মন দিয়ে শুনলে বুঝতে
ওটা কোন ভাঙ্গা ভাঙ্গির শব্দ নয় ,ওটা ঝিল্লিরব ।

      Amra Abhoman Dwongsho O Nirmane1 - Kamrul Hasan Monju And Jesmin Jobbar
      Amra Abhoman Dwongsho O Nirmane1 - Kamrul Hasan Monju And Jesmin Jobbar
পুর্নেন্দু পত্রী
পুর্নেন্দু পত্রী
পূর্ণেন্দুশেখর পত্রীঃ (ফেব্রুয়ারি ২, ১৯৩১ - মার্চ ১৯, ১৯৯৭) (পূর্ণেন্দু পত্রী নামে সর্বাধিক পরিচিত; ছদ্মনাম সমুদ্রগুপ্ত) একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, সাহিত্য গবেষক, কলকাতা গবেষক, চিত্র-পরিচালক ও প্রচ্ছদশিল্পী।জন্ম, শিক্ষা পূর্ণেন্দু পত্রীর জন্ম বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার নাকোলে। পিতা পুলিনবিহারী পত্রী, মা নির্মলা দেবী। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পারিবারিক কলহের কারণে পৈত্রিক ভিটে ছেড়ে চলে আসেন কলকাতায়। ১৯৪৯ সালে ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজে ভর্তি হন বাণিজ্যিক শিল্পকলা বা কমর্শিয়াল আর্টের ছাত্র হিসেবে। যদিও নানা কারণে এই পাঠক্রম শেষ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। ছেলেবেলায় বাগনানের বিশিষ্ট কমিউনিস্ট নেতা অমল গাঙ্গুলির সংস্পর্শে এসে কমিউনিস্ট পার্টির নানান সাংস্কৃতিক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কলকাতায় অভিভাবক কাকা নিকুঞ্জবিহারী পত্রীর চলচ্চিত্র পত্রিকা চিত্রিতা ও সাহিত্যপত্র দীপালি-তে তাঁর আঁকা ও লেখার সূচনা হয়। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হয়ে পড়লে রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চা উভয়েই একসঙ্গে চালাতে থাকেন।প্রকাশনাঃ ১৯৫১ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ একমুঠো রোদ প্রকাশিত হয়। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস দাঁড়ের ময়না মানিক পুরস্কার লাভ করে। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল শব্দের ঠিকানা (১৯৭৫), সূর্যোদয় তুমি এলে (১৯৭৬) আমাদের তুমুল হৈ-হল্লা (১৯৮০) ও গভীর রাতের ট্রাঙ্ককল (১৯৮১), আমিই কচ আমিই দেবযানী ইত্যাদি। সাহিত্য গবেষক শিশিরকুমার দাশ তাঁর কাব্য সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ছন্দের কৌশল, প্রতিমা গঠনের স্পষ্টতা এবং কথনভঙ্গির ঘরোয়া চাল তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। পূর্ণেন্দু পত্রীর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভোমরাগুড়ি, মালতীমঙ্গল ইত্যাদি। রূপসী বাংলার দুই কবি তাঁর একটি বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ। পূর্ণেন্দু পত্রী কলকাতা সম্বন্ধে প্রায় এক ডজন গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য শহর কলকাতার আদি পর্ব, বঙ্গভঙ্গ, কি করে কলকাতা হল, ছড়ায় মোড়া কলকাতা, কলকাতার রাজকাহিনী, এক যে ছিল কলকাতা ইত্যাদি। জীবনের শেষপর্বে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে এক বিশাল গবেষণার কাজ শুরু করেছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে ১৯৯৬ সালে তার প্রথম খণ্ড বঙ্কিম যুগ প্রকাশিত হয়। শিশুসাহিত্যেও তিনি ছিলেন এক জনপ্রিয় লেখক। ছোটোদের জন্য লিখেছেন আলটুং ফালটুং, ম্যাকের বাবা খ্যাঁক, ইল্লীবিল্লী, দুষ্টুর রামায়ণ, জুনিয়র ব্যোমকেশ, যজাম্বো দি জিনিয়াস, প্রভৃতি হাসির বই। আমার ছেলেবেলা নামে তাঁর একটি স্মৃতিকথাও রয়েছে। সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে বিদ্যাসাগর পুরস্কারে ভূষিত করেন।চলচ্চিত্রঃ ১৯৬৫ সালে প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্প অবলম্বনে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র স্বপ্ন নিয়ে মুক্তি পায়। এর পর রবীন্দ্রনাথের কাহিনি অবলম্বনে স্ত্রীর পত্র ও মালঞ্চ সহ পাঁচটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন তিনি। এছাড়াও নির্মাণ করেন সাতটি তথ্যচিত্র। স্ত্রীর পত্র চলচ্চিত্রটির জন্য তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চিত্রনির্মাতা ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে সমরেশ বসুর কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত তাঁর ছেঁড়া তমসুক চলচ্চিত্রটিও একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছিল।