ঝলসানো রুটি

উর্বর কৃষি জমি; তারপর লাশের মিছিল।
তারপর অন্ধগলি – পাথর হয়েছে চোরাবালি।
আবার এসেছি সেই পথে,
আলোর সন্ধানে অন্ধকারের আলিঙ্গনে –
যেখানে শেষ বার ডেকেছে দাড়কাক।
কোথাও বিদ্যুতের তারে ঝুলে আছে মরা বাদুড়
নিথর দেহখানি দুলছে হাওয়ায় অজানা শীতের কুয়াশায়
নিঃসিম জনসমুদ্রে ডুবে গেছে শেষ আর্তনাদ
বাচার তীব্র অভিলাসে –
আবার আবার আর্তনাদ।
এক ফ্লাক্স চা হাতে চলে গেছে
ভোরের প্রথম চাওয়ালা।
তারপর মৃদু বাতাস একটু সূর্যালোক –
আড়মোড়া কাটিয়ে উঠতে বাধ্য ক্লান্ত শরীর।
সহস্র অসন্তোষে ভারাক্রান্ত শহরে –
আরও একটা নতুন প্রভাত।
আপোষ আর আপোষের বোঝা বেয়ে,
কোন ভাবে একবার একবেলা খেয়ে –
বেচে আছে জনঅরণ্য আজও এ পাষাণপূরে।
আবার এসেছি সেই পথে,
শেষবার যেখানে মিলিয়ে গিয়েছে
ক্ষুদার্ত কুকুরের বুকচেরা হাহাকার।
আজকাল ডাস্টবিন গুলোও শুকিয়ে গিয়েছে –
খাদ্যের অভাবে।
খাদ্যের বদলে সেখানে পড়ে আছে শুধু ঘৃনা আর পশুত্ব।
অমানবিক যন্ত্রনার দামে
বিক্রি হয়ে গেছে মানবিকতার পদ্য।
হঠাৎ শুকিয়ে যাওয়ার বেদনায়
কুকুরও আজকাল হয়ে যায় কবি –
ভাবে পূর্ণীমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  আবার সন্ধ্যা হয় চারিদিকে
অজান্তিক- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...