“জন্মই আমার আজন্ম পাপ, মাতৃজরায়ু থেকে নেমেই জেনেছি আমি সন্ত্রাসের ঝাঁঝালো দিনে বিবর্ণ পত্রের মত হঠাৎ ফুৎকারে উড়ে যাই পালাই পালাই সুদূরে চৌদিকে রৌদ্রের ঝলক বাসের দোতলায় ফুটপাতে রুটির দোকানে দ্রুতগামী নতুন মডেলের চকচকে বনেটে রাত্রির জমকালো আলো ভাংগাচোরা চেহারার হদিস ক্লান্ত নিঃশব্দে আমি হেঁটে যাই পিছনে ঝাঁকড়া চুলওয়ালা যুবক। অষ্টাদশ বর্ষীয়ার নিপুণ ভঙ্গী দম্পতির […]
লেখক: দাউদ হায়দার
একজন বাংলাদেশী বাঙ্গালী কবি, লেখক ও সাংবাদিক, যিনি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে দেশ থেকে নির্বাসনের পর বর্তমানে জার্মানীতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিনি বর্তমানে একজন ব্রডকাস্টিং সাংবাদিক।তিনি একজন আধুনিক কবি যিনি সত্তর দশকের কবি হিসাবে চিহ্নিত। তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যের নাম "জন্মই আমার আজন্ম পাপ"।
== কর্মজীবন ==
সত্তর দশকের শুরুর দিকে দাউদ হায়দার দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন সোসাইটি ফর পোয়েট্রি দাউদ হায়দারের কোন এক কবিতাকে “দ্যা বেস্ট পোয়েম অব এশিয়া” সম্মানে ভুষিত করেছিল। সংবাদের সাহিত্যপাতায় 'কালো সূর্যের কালো জ্যোৎসায় কালো বন্যায়' নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। ধারণা করা হয়ে থাকে, তিনি ঐ কবিতাতে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), যিশুখ্রীষ্ট এবংগৌতম বুদ্ধ সম্পর্কিত অবমাননাকর উক্তি ছিল যা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। তাঁর ''সংস্ অব ডেস্পায়ার'' বইতে এই কবিতাটি সঙ্কলিত আছে বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশে মৌলবাদী গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিবাদ শুরু করে।ঢাকার এক কলেজ-শিক্ষক ঢাকার একটি আদালতে এই ঘটনায় দাউদ হায়দারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।
== দেশত্যাগ ==
তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার দাউদ হায়দারকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশ সরকার তখন চায়নি আন্তর্জাতিকভাবে মুসলিম সরকারদের সাহায্য হারাতে। ১৯৭৩ সালে কবিকে নিরাপত্তামূলক কাস্টডিতে নেয়া হয়। ১৯৭৪ এর ২০ মে সন্ধ্যায় তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ২১শে মে সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ বিমানের একটা রেগুলার ফ্লাইটে করে তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়। ওই ফ্লাইটে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না।
তাঁর কাছে সে সময় ছিল মাত্র ৬০ পয়সা এবং কাঁধে ঝোলানো একটা ছোট ব্যাগ ব্যাগে ছিল কবিতার বই, দু'জোড়া শার্ট, প্যান্ট, স্লিপার আর টুথব্রাশ। কবির ভাষায়--আমার কোন উপায় ছিল না। মৌলবাদীরা আমাকে মেরেই ফেলত। সরকারও হয়ত আমার মৃত্যু কামনা করছিল।
== জার্মানীতে ==
জার্মানীর নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক গুন্টারগ্রাসের সহযোগিতায় ২২ শে জুলাই ১৯৮৭ সালে তিনি জার্মানীর বার্লিন শহরে যান এবং তারপর থেকে সেখানেই আছেন। উল্লেখ্য তিনি বার্লিন যাত্রায় পাসপোর্টের পরিবর্তে জাতিসংঘের বিশেষ ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করেছেন। এ ব্যাপারে তখন জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় কর্মরত শামসুল বারী তাঁকে অনেক সাহায্য করেন। দাউদ হায়দার পরে এই জাতিসংঘের ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করে বহু দেশ ঘুরেছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি জার্মানীতে সাংবাদিক হিসেবে চাকুরী শুরু করেন।
তিনি প্রায় ৩০টির মতো বই লিখেছেন জার্মান, হিন্দি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জাপানিজ ও স্প্যানিশ ভাষায়।
পৌষের মাঠও
এক মাঘে শীত যায় না, দিন আসছে বুঝলে হে, মৃতেরা যখন জেগে উঠবে, বলে রাখছি সমস্ত দিনের গুরুভার তোমাকেই বইতে হবে বাড়ছে দিনের তাপমাত্রা, যে-সব পাজির পা-ঝাড়ারা রৌদ্র আর জ্যোত্স্নাকে এক করে দ্যাখে, প্রতিসরণের বিভাবে হঠাত্ সংঘাতুর হয়ে যায়, জেনো শীত মানেই তুষারাচ্ছন্ন নয়, পৌষের মাঠও পোড়ে সূর্যের ঠাণ্ডা রোদ্দুরে। …
প্রেম
প্রেম দ্যাখো বয়স মানেনা কোনদিন ছোটবড় তালার মতো সব বয়সের কপাটে ঝুলে পড়ে হঠাৎ প্রেম, সবুজ নিসর্গ থেকে পলাতক কয়েদীর মতোন নিঃশব্দে বেরিয়ে আসে দ্রুত ঠাঁই নেয় বিভিন্ন লোকালয়ে; খেলা করে সকাল বিকাল তোলপাড়ে ভেঙে যায় নীলিমার আজীবন আশীর্বাদ-গড়ে তোলে সুখ-দুঃখ পড়ে থাকে বয়স্কদের দারুণ চোখ প্রেম, সেতো বয়স মানে নি কোনদিন- বুঝি তাই তীক্ষ্ণ […]
