মা

মিতা

জানুয়ারী/০৯ হঠাৎ একটা ফোন পেলাম । আমার মায়ের ক্যান্সার।
যেহেতু প্রবাসজীবন কিছুতেই ঘুমাতে পারলাম না । আমার বাবা আগে থেকেই অসুস্থু । কি যে করি ! বিস্তারিত জানলাম । মায়ের ওরাল ক্যান্সার ।
লেগে গেলাম বিস্তারিত জানতে , এর চিকিৎসা পদ্বতি আর নিরাময় কি ভাবে হয় । চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রুভুত উন্নতি হয়েছে, ক্যান্সারের চিকিৎসাতেও ।
ডাক্তার বলেছেন অপারেশান করতে হবে । তারপর ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে হবে ।চিকিৎসা বিজ্ঞানে second opinion বলে একটা কথা আছে । যার বাংলা মানে করলে দেখি অন্য ডাক্তার কি বলে ?
সে মতো দ্বিতীয় ডাক্তারের মতামত নিতে বললাম । আর আমি জাপান থেকে বাংলাদেশের প্রখ্যাত হাসপাতালে ফোন করতে লাগলাম ।
আমি চিকিৎসা পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট না হলেও আমার স্ত্রী এই পেশার সাথে যুক্ত। ওর মতামত আর আমার ইন্টারনেট সার্চ এই দুইয়ে চলতে লাগলো আমার মায়ের চিকিৎসা ।
দ্বিতীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো মা কে । এবারের ডাক্তার হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের Oral and Maxilofacial surgery বিভাগের Chairman & Professor মতিয়ুর রহমান মোল্লাএকই মতামত দিলেন ।
সেইমতে আমিও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশান করাতে বললাম । আমার অনেক আত্মীয়স্বজন উন্নত চিকিৎসার জন্যা ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিলেন । আমি তাদের কথার কোন জবাব দেই নি কারন কান্স্যার চিকিৎসা একটি ধারাবাহিক একটি প্রক্রিয়া, এই কথাটি শুধু ক্যান্সার নয় প্রায় সব অসুখের ক্ষেত্রেই প্রজোয্য ।
যাক আমার মায়ের অপারেশান শেষ হলো। আমি ও বাংলাদেশে গেলাম ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তায়ে । মা আমাকে দেখে কেঁদে ফেললেন ।মা তখনো মুখে খাবার খেতে পারেন না, নাক থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছিল ।
২ দিন পর ডাক্তার এর সাথে কথা হলো , পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে আলাপ করলাম । এর পরের চিকিৎসা হলো Chemotherapy আর radiotherapy ।
অপারেশান শেষ হওয়ার ৩ সপ্তাহ পর মাকে নিয়ে গেলাম ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কাছে । এবারের ডাক্তার হলেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রেডিয়েশান অনকোলজী র সহকারী অধ্যাপক মোহান্মদ এহতেশামুল হক । তিনি ক্যান্সার চিকিৎসা পদ্বতি আর এর পাশ্বপ্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করলেন । সেই হিসাবে পরদিন থেকে আমার মায়ের Chemotherapy হলো ।
প্রথম বারের Chemotherapy শেষ হলে আমি চলে এলাম জাপান । তিন বার Chemotherapy দিতে হয়েছে , ইতিমধ্যে আমার মায়ের Chemotherapy শেষ হয়েছে । ২/১ দিনের মধ্যে radiotherapy শুরু হওয়ার কথা। বাবা অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য মা যদি বাবার কাছ থেকে দূরে থাকেন তো বাবাও অসুস্থ হয়ে যান , তাই আমরা চেয়ে ছিলাম অন্তত রেডিওথেরাপী টা যদি আমার বাড়ীর কাছেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়া যেতো তবে খুবি ভাল হতো , কারন রেডিওথেরাপী বেশ দীর্ঘ একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া, সপ্তাহে তিনদিন করে কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ । এই চিকিৎসাটা যদি ঢাকার বাহিরে করা যায় তো অনেক ভাল হয় ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ রেডিও থেরাপী দেওয়ার ব্যাবস্থা থাকলে ও বছরের বেশীর ভাগ সময় মেশিনটি অচল থাকে ।চট্টগ্রামের প্রাইভেট হাসপাতালে এখনো রেডিওথেরাপী দেওয়ার বব্যস্থা নেই । জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা ইন্সটিটিঊট , ঢাকা মেডিকেল কলেজ সহ ঢাকার কিছু কিছু প্রাইভেট হাসপাতালে এই সুবিধা আছে । ল্যাব এইড হাসপাতাল এ আমার মায়ের রেডিওথেরাপী দেওয়া হতে পারে ।
ওরাল ক্যান্সার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে
এখানে ক্লিক করুন । এশিয়া তে ওরাল ক্যান্সার সবচাইতে বেশী । আমাদের এশীয় সংস্কৃতিতে যে পান খাওয়ার অভ্যাস চালূ আছে এটা কে ওরাল ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসাবে ভাবা হচ্ছে ।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  একুশে টিভি

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

মিতা- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...