কথোপকথন-১

তুমি কি খুব বেশি অভিমানী নাকি নিজের চারপাশে একটা দেয়াল তুলে রাখ, কেউ যেন তা ভেদ করতে না পারে।
-হয়তো তাই
নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই কি পছন্দ নয় তোমার?
-স্বার্থপর মানুষ গুলো সেরকমই
তাই বলে মানুষের ভাল লাগাগুলোকে মূল্যায়ন করতে নেই।
-আমি কি কারো ভালো লাগার অবমূল্যায়ন করেছি
তুমি কারো অনুভূতি বোঝ?
-কি মনে হয়
বোঝ না তো
-বুঝি না তা হয়তো ঠিক নয়। তবে নিজের মতো বুঝি।
তুমি যতই দূরে সরিয়ে রাখতে চাওনা কেন আমি সবসময় সব অনুভবগুলো, স্মৃতিগুলো নিজের করেই রাখবো।
-আমি তাতেই খুশি
অভিমান করে করে নিজেকে নিঃস্ব করতে পারবো না। তোমার যা ইচ্ছা তুমি তাই কোরো।
-নিঃস্ব করেছি তা তুমি ভাবলে কেমনে? নিজের কাছে নিজের মতো করে যত্নে রেখেছি তোমার মতো ।
এই সম্পর্কটা আমার আজীবন আনন্দের উৎস, এই কথাটা কতবার তোমায় বোঝাবো। এই সম্পর্কটা বেশিকিছু দাবী করে না।
-জটিল কথা! কিছুই বুঝতে পারছি না
জটিল না, খুব সহজ, কারো কিছুতে ভাল লাগলে তা তোমার ভাল লাগে না।
-কিছু বুঝতে পারছি না! আমি সব সময় উল্টো বুঝি !
না বোঝো সেই ভাল। তোমার কোন লেখায় কি আমার উপস্থিতি নেই? বলবে না, কোন লেখাটায় আমি আছি?
-নেই তা কি বলেছি। ভাবছি এখন থেকে ফেসবুকে আর কিছু লিখবো না।
কেন, ভয় হয়?
-ভয় নেই। নিজের না হলেও অন্যের ভয় ধরতে পারে।
আমি তো ভয় ভাবনার উর্ধ্বে আছি। নিজেকে ভাল রাখতে যা করতে হয় করে যাব।
– দুই একটা সাইট কিছু লেখা আছে।
আমি জানতে পারবো তো?
-কোথায় কি আছে,নিজেই তো মনে রাখিনি।
আবারো হেঁয়ালি
সেই ভালো সেই ভালো। সেই ভালো। নিজেকে দুর্বোধ্য করতে জানলে ভালো
-দুর্বোধ্য মানুষ এর কাছে এর চেয়ে বেশি আশা করা ভুল।
বেশি আশা করবো কেন। এই এত বছর যা পেয়েছি তাই বা কম কি তুমি তো তবু কোথাওনা কোথাও লিখতে পার, আমি কত কি বলতে চাই, লিখতে চাই, সুযোগ নেই।
-খুঁজে নাও লিখে ফেল। লেখার কতো জায়গা এখন… শুধু মনের মধ্যে রাখলে একদিন সব ভুলে যাবে।ভু লে যাবার আগে কোথাও লিখে রাখ।
না বাদ দাও, দেখা হলে বলে ফেলবো সব, তাতেই হবে…
-যদি দেখা হয়
হ্যা, যদি দেখা হয়।
-তা হলে তো কথাই নেই
জোর করলে যদি যেটুকু আছে তাই হারাতে হয়?
-ভয়
হ্যা, নিজের অক্ষমতার ভয়।
-আমার কাছে কিবা আছে যার জন্য তোমার ক্ষমতার দরকার হবে…
তুমি কারো কাছে যে অনেকখানি সেটা আমার চেয়ে ভাল আর কে জানে। আচ্ছা চানঘরে গান এর চিঠিগুলো ঢাকার কাকে লেখা জান?
-চান ঘরে গান ই বলো হাজারদুয়ারীই বলো তাঁর জবাব লেখকই ভালো দিতে পারবেন। এই যে আমিও এতকিছু লিখি কিন্তু কাকে লেখা কেউ কি জানেন! যার জন্য লেখা সে জানে, যে লেখে সে বুঝতে দিতে চায়না, এই যা। তসলিমা নাসরিনকে লেখা
-তুমি কেমন করে বুঝলে
যারা বেশি জানেন তাদের কাছ থেকে জেনেছি
-তাহলে তো কথাই নেই।আমার মতো কম জানা মানুষ কি ই বা বলতে পারে!
এই ক্ষ্যাপেছে!
-সেরকম মনে হচ্ছে
তোমাকে ক্ষ্যাপাতে ভাল লাগছে
-তাই নাকি
যদি পায়ের ওপর পা দিয়ে ঝগড়া করতে পারতাম! এই আশাটাই হয়তো অপূর্ণ থেকে যাবে। আর সব পেয়েছি।
-ঝগড়া টগড়া বুঝি না আমি এখন উষ্ণতা খুঁজছি। পায়ের উপর শুধু পা-ই নয়,গা-এর উপর গা-ও … সে কোন চুলোরই হোক বা কোন অস্পরী বালিকার কোমল হৃদয় হোক !
চলে আস, সব আছে।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  উক্তির মুক্তি ও নজরুল

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

মিতা- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...