আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য।
বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক। আমি হাত পাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না।
আমি জানি এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী-সেবার দায় থেকে।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুকঃ
আমার জল লাগবে কিনা, আমার নুন লাগবে কিনা,
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরোও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কিনা।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভেতর থেকে আমার ঘরের দরোজা
খুলে দিক। কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুকঃ “তোমার চোখ এতো লাল কেন?”
Related Articles
পরমাপ্রকৃতি
মেঘের রঙ দিয়ে ছুঁয়ে দিস অবন্তিকা চামড়া বাঘের ডোরা ধরে হাওয়ার রেশম দিয়ে চুল আঁচড়ে দিস অবন্তিকা মাথা বেয়ে ওঠে বুনোমহিষের শিং ঝড়ের মস্তি দিয়ে পাউডার মাখিয়ে দিস অবন্তিকা গায়ে ফোটে গোখরোর আঁশ হরিণের নাচ দিয়ে কাতুকুতু দিস অবন্তিকা ঈগলপাখির ডানা পাই রোদের আঁশ দিয়ে নখ কেটে দিস অবন্তিকা গজায় নেকড়ের থাবা হাতে-পায়ে নদীর ঢেউ […]
বন্ধুকে মনে রাখার কিছু ২
দল বেঁধে সিনেমায় ঢুকে মনে পড়ে যায় যদি আমাকে সবার কোনোদিন দীর্ঘায়িত পর্দার অলৌকিক স্পর্শে সেদিন পরিপূর্ণ শিহরনময় একটি দুঃখের দৃশ্যে আমাকে খুঁজবে তুমি? ঘরে ফিরে যাবার বেলায় মনে হবে? নাকি, সে-রাতের কথা আকস্মাৎ দগ্ধ কোরে দেবে? যে রাত্রে অর্থহীন পাগলের মতো কী সে এক দুর্মর আকাঙ্খায় শহরের শব্দহীন রাস্তায় সারারাত ঘুরে শৈশবের পুরনো ইতিহাস […]
শ্লোগান
ফিরছে সবাই, ধারাজলে সুখী খড়কুটো, ফিরছে সবাই। তৃপ্ত উজ্জ্বল মুখ, সিল্কের নরম ঢেউ, মসৃণ বিহ্বল চুল ঠেকিয়ে প্রফুল্ল মেঘে, বেহালার সুর ঢেলে ধাতুতে কংক্রিটে ব্যর্থতার স্পর্শহীন বিশাল ব্যাপক জনমণ্ডলি ফিরে যাচ্ছে ঘরে। পতাকাখচিত সুখ দোলে চারপাশে, বাতাসে ঝলকে ওঠে সেতারের সোনা তান। যা কিছু চেয়েছে তারা: ঘুম, কুসুম, দু-চোখে নদীর রেখা, উজ্জ্বল ধানের গুচ্ছ, ওষ্ঠে […]

