আমার জীর্ণ পাতা যাবার বেলায় বারে বারে
ডাক দিয়ে যায় নতুন পাতার দ্বারে দ্বারে ।।
তাই তো আমার এই জীবনের বনচ্ছায়ে
ফাগুন আসে ফিরে ফিরে দখিন-বায়ে,
নতুন সুরে গান উড়ে যায় আকাশ-পারে,
নতুন রঙে ফুল ফুটে তাই ভারে ভারে ।।
ওগো আমার নিত্য-নূতন, দাঁড়াও হেসে ।
চলব তোমার নিমন্ত্রণে নবীন বেশে ।
দিনের শেষে নিবল যখন পথের আলো,
সাগরতীরে যা্ত্রা আমার যেই ফুরালো,
তোমার বাঁশি বাজে সাঁঝের অন্ধকারে-
শূন্যে আমার উঠল তারা সারে সারে ।।
Related Articles
অকারণে অকালে মোর পড়ল যখন ডাক
অকারণে অকালে মোর পড়ল যখন ডাক তখন আমি ছিলেম শয়ন পাতি। বিশ্ব তখন তারার আলোয় দাঁড়ায়ে নির্বাক, ধরায় তখন তিমিরগহন রাতি। ঘরের লোকে কেঁদে কইল মোরে, “আঁধারে পথ চিনবে কেমন ক’রে?’ আমি কইনু, “চলব আমি নিজের আলো ধরে, হাতে আমার এই-যে আছে বাতি।’ বাতি যতই উচ্চ শিখায় জ্বলে আপন তেজে চোখে ততই লাগে আলোর বাধা, […]
হে ক্ষণিকের অতিথি
হে ক্ষণিকের অতিথি, এলে প্রভাতে কারে চাহিয়া ঝরা শেফালির পথ চাহিয়া ॥ কোন্ অমরার বিরহিণীরে চাহ নি ফিরে, কার বিষাদের শিশিরনীরে এলে নাহিয়া ॥ ওগো অকরুণ, কী মায়া জানো, মিলনছলে বিরহ আনো। চলেছ পথিক আলোকযানে আঁধার-পানে মনভুলানো মোহনতানে গান গাহিয়া ॥
যখন তুমি বাঁধছিলে তার সে যে বিষম ব্যথা
যখন তুমি বাঁধছিলে তার সে যে বিষম ব্যথা– বাজাও বীণা, ভুলাও ভুলাও সকল দুখের কথা ॥ এতদিন যা সঙ্গোপনে ছিল তোমার মনে মনে আজকে আমার তারে তারে শুনাও সে বারতা ॥ আর বিলম্ব কোরো না গো, ওই-যে নেবে বাতি। দুয়ারে মোর নিশীথিনী রয়েছে কান পাতি। বাঁধলে যে সুর তারায় তারায় অন্তবিহীন অগ্নিধারায়, সেই সুরে মোর […]

