কবিতা

কু

সে এসে দাঁড়াল তামসী মেঘের আবডালে, ঐ
স্টেশনের থেকে এককুচি আলো কপালে বিঁধল নিষ্ঠুর,
আমি বিব্রত কন্ঠে বলেছি, “কে তোকে জড়াবে?” —রক্তের রঙা
ব্লাউস হঠাৎ উড়ে গেল আর সে শুধু বলল, “তু…”
গঞ্জের নাম দিগন্তহাট, মেয়েটির নাম কু।
ফের একবার ট্রেন এল, সেটা বোধহয় পরের বছরই,
তখন সন্ধ্যা নিবিয়ে দিচ্ছে পথপ্রান্তর — এমন সময়
দাঙ্গাধ্বস্ত গ্রাম থেকে তার আলুথালু দেহ ছুটে এল… আঃ,
সে এসে দাঁড়াল তামসী মেঘের বুক ছিঁড়ে, তার
দুই চোখ থেকে শ্মশানকালীর বিষ ও ভস্ম… আমি ভয়ার্ত
কন্ঠে বলেছি, “কে তোকে মেরেছে?” — এক থুৎকারে
আমার সাহস ছারখার করে সে শুধু বলল, “তু…”
গঞ্জের নাম শ্রেণীসংগ্রাম, মেয়েটির নাম কু।
সকাল ০৯.১৫ মিনিট
৭/৯/৮৬

জয়দেব বসু
জয়দেব বসু
১২ মে ১৯৬২ জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। তিনি ছিলেন বাবা-মার জ্যেষ্ঠ সন্তান। পিতা পরিতোষ বসু ছিলেন নড়াইল জেলার সিঙিয়া গ্রামের মানুষ। মাতা বেলা বসু টাঙ্গাইল জেলার সাজানপুর গ্রাম নিবাসী। জয়দেব শিক্ষালাভ করেন পাঠভবন (শান্তিনিকেতন), প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পেশা হিসেবে বেছে নেন অধ্যাপনা। ৫০ বছর বয়সে জয়দেব বসু হারিয়ে যাবেন কেউ ভাবেনি, কেউ কল্পনা করেনি। এ বয়সেও তিনি ছিলেন যেন তারুণ্যে উজ্জ্বল, রঙিন-আলোকময়। তাঁর শৈশব কাটে দার্জ্জিলিং এবং শান্তিনিকেতনে। স্কুল শেষ করে যোগ দেন কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে বাংলা নিয়ে। স্নাতকোত্তর পড়া শেষ করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এর পর তিনি দমদম মোতিঝিল কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত দীর্ঘ কবিতা “মেঘদূত” যা প্রকাশিত হয়েছিল । ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১২ জয়দেব বসু মৃত্যু বরন করেন ।