অন্যান্য

তবু ভালোবাসি ঢাকাকেই

dhaka

আমরা ঢাকাকে ভালোবাসি। জানি ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বসবাস-অযোগ্য শহরের একটা। তবু আমি ঢাকাকেই ভালোবাসি। নির্মলেন্দু গুয়ণের কবিতা আছে—এই ঢাকাতে মুখে চুমু, এর ধুলোতেই ধিক থু, এই ঢাকাতে জন্ম এবং এর ধুলোতেই মৃত্যু। কবি নির্মলেন্দু গুিণের এবং আমারও, ঢাকাতে জন্ম হয়নি। কিন্তু তবু মনে হয়, ঢাকাই আমার জন্মদাত্রী। তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও, আমি এই বাংলার বুকে রয়ে যাব এবং রয়ে যাব ঢাকাতেই।
একবার তামাবিল সীমান্ত পার হয়ে ডাউকি বন্দর দিয়ে ঢুকে পড়লাম মেঘালয়ে, পাঁচ মিনিটের মধ্যেই জিপগাড়ি উঠে পড়ল পাহাড়ে, মেঘে ঢাকা পথ, হিমশীতল, রাস্তা আঁকাবাঁকা, দুপাশের ঘরদোরের স্থাপত্য নকশা গেল পাল্টে, মানুষজনের পোশাক আলাদা, রেইনকোট পরা বাচ্চারা স্কুল থেকে ফিরছে, মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে বিদেশ, শীতের দেশ, বাহ্, বেশ তো, কত ঝরনা, কত গুহা, আঁকাবাঁকা পথ, হেডলাইট না জ্বালিয়ে চলা যায় না, আমি মুগ্ধ। তিন দিন পরে ওরা আমাদের নিয়ে গেল পাহাড়ের ওপরে একটা জায়গায়, এখানে কী দেখার আছে? বাংলাদেশ। সেই উঁচু পাহাড় থেকে নিচে তাকিয়ে দেখি—সবুজ জলে ঢাকা সমান বাংলাদেশ, এত সুন্দর, এত সুন্দর, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ…। তারপর যখন আবার ফিরে এলাম বাংলাদেশ সীমানার ভেতরে, গরম, কিন্তু রাস্তা চলছে সরলরেখার মতো সোজা, এত সুন্দরও একটা দেশ হয়, যা মেঘে ঢাকা নয়, যেখানে আলো ঝকমক করে, আর রাস্তা মনে হচ্ছে স্কেল ধরে সোজা করে টানা হয়েছে।
আমি যতবার বিদেশ থেকে ফিরি, ঢাকার আকাশে বিমান আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি হাসতে থাকি, নিচে তাকাই, সবুজ আর পানি, সাপের মতো আঁকাবাঁকা নদী, আহ্, কী সুন্দর। বিমানের চাকা রানওয়ে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে আমার হাসির খিলখিল শব্দ শুনে সহযাত্রীরা সচকিত হয়, কী হয়েছে? আমি বলি, ভাইরে, আইসা পড়ছি, নিজের দেশে।
তবু এ কথা মানতেই হবে, ঢাকা চলছে না।
না, সেটা গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জলজট আর যানজটের কারণে বলছি না। যাঁরা বলছেন, এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই এই—তাঁরা ঠিক বলছেন না, আবারও ঠিকও বলছেন, এক ঘণ্টায় বৃষ্টি যদি বেশি হয়, তাহলে পানি জমবেই। প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ কত বৃষ্টি হবে, তার একটা হিসাব ধরে নিয়ে প্রকৌশল নকশা করা হয়, সর্বোচ্চটা ধরা হয় না। কারণ, অমন বৃষ্টি হবে বছরে এক-আধবার আর বেশির ভাগ সময় স্টর্ম সুয়ারেজে কোনো পানিই থাকে না। তবে কথা হলো, অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে পানি জমবে, পৃথিবীর বহু শহরেই এই সমস্যা হয়, হয়েছে। মুম্বাই শহরে এ সমস্যা প্রকট, এ বছরেও ওরা ভুগছে এই সমস্যায়, তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়েছিল ২০০৫ সালের ২৬ জুলাই, মানুষজন মারা গিয়েছিল। ২০১২ সালে নিউইয়র্কের পাতালরেলে পানি ঢুকে গিয়েছিল।
গত মে মাসে আমেরিকার হিউস্টনে হঠাৎ বন্যায় রাস্তাঘাট ভেসে গেছে, থেমে গেছে, ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখান থেকে সংবাদপাঠক ও প্রকৌশলী সিরাজুল মজিদ মামুন লিখেছিলেন, হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হয়ে কীভাবে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে ছিলেন। ওই জলের তোড়ে ভেসে একজন বাংলাদেশিরও মৃত্যু হয়েছিল। নূরুল আলম চৌধুরী নামের ওই দেশি ভাইয়ের টয়োটা অ্যাভালন গাড়ি পানির তোড়ে রাস্তা থেকে ভেসে লেকে পড়ে গিয়েছিল। কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল ফেসবুকে ছবি দিয়েছেন, কানাডার টরন্টো দুই বছর আগের বৃষ্টিতে কী রকম নাকাল হয়েছিল। হঠাৎ বৃষ্টিতে বা বন্যায় এটা হতে পারে। কিন্তু ঢাকার অসুবিধা হলো, এখানে যানজট সমস্যা রোজ হয়। ঢাকার সমস্যা হলো, এখানে জলাবদ্ধতা অনেক জায়গায় সামান্য বৃষ্টিতেই হয় এবং তা নিয়মিত। ঘরদোরে পানি ঢুকে যায়। ঢাকা চলছে না, ঢাকা চলবে না, চলার কোনো কারণ নেই। কারণ রাস্তা কম, যানবাহনের সংখ্যা বেশি। ঢাকায় যে পরিমাণ মানুষ, তাতে যদি কোনো যানবাহন ছাড়া আমাদের হেঁটে চলাচল করতে হয়, তাহলেও
রাস্তায় মানবজট লেগে যাবে। ঢাকার এবং দেশের পরিবহন সমস্যার সমাধানে, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে দরকার মহাপরিকল্পনা এবং বৈপ্লবিক কর্মোদ্যোগ।

জলাবদ্ধতা বিষয়ে কী করণীয়?
ঢাকার প্রতিটা ওয়ার্ডে কতখানি বৃষ্টির পানি, কতখানি গার্হস্থ্য পানি নিষ্কাশন করতে হবে, তার স্টাডি তৈরি করা আছে দুটো। কী করতে হবে, তাও বলা আছে। সমস্যা হলো, করবেটা কে? ড্রেনের দায়িত্ব এক সংস্থার, সুয়ারেজের দায়িত্ব আরেক সংস্থার, জলাধারের দায়িত্ব আরেকটার, পাম্পগুলো আরেকটার, নদীগুলো আরেকটার। ঢাকার ৫৪টা খাল উদ্ধার করতে হবে, এটা করতে হবে নিষ্ঠুর-কঠোর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে, দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে, বৈধ দখলদারদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তারপর খালের দুপাশ বাঁধিয়ে ফুটপাত করে দিতে হবে।
ডিটেইল এরিয়া প্ল্যােন (ডিএপি) চিহ্নিত বন্যা প্রবাহী এলাকাগুলো দখলমুক্ত করতে হবে, ভরাট করা বন্ধ করতে হবে।
পাম্প করে পানি তুলে ঢাকার পানি বাইরে ফেলা হয়, সেই পাম্পের গোড়ার জলাধারগুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পাম্প চলে না। ওই জলাধারগুলো উদ্ধার করতে হবে। ঢাকার ভেতরে ও আশপাশে জলাধার ভরাট করা বন্ধ করতে হবে। গত চার-পাঁচ বছরে দেখলাম, মিরপুরে প্রশিকা ভবনের পেছনের লেকটা প্রথমে বাঁশের বস্তিঘর দিয়ে ভরাট হয়ে গেল, এখন সেখানে উঠছে ফ্ল্যাট, মার্কেট। বক্স কালভার্ট ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে লেগে পড়তে হবে এখনই। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দখলমুক্ত করতে হবে।
ঢাকার যানজট সমস্যার সমাধানের জন্যও দরকার সমন্বিত পরিকল্পনা। কী করতে হবে, এই নিয়ে স্টাডি ও সুপারিশ দাতাদের অর্থায়নে করা আছে। কিন্তু আমরা হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটওভারব্রিজ বানাচ্ছি, ছোট ছোট ফ্লাইওভার বানাচ্ছি। পরে এগুলো না আবার ভাঙার দরকার পড়ে। বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা হতে হবে নৌপথভিত্তিক, এরপর রেলভিত্তিক, সবশেষে আসবে সড়কপথ। তার মানে একটা সার্বিক ও দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। তার জন্য দরকার হবে টাকা, কিন্তু সদিচ্ছা থাকলে টাকা আজকের দুনিয়ায় বাধা হয়ে থাকে না। দরকার হবে রাজনৈতিক কঠোর অবস্থান ও সিদ্ধান্ত। প্রতিটা সমস্যারই কারিগরি সমাধান আছে। সঠিক পরিকল্পনা করে সঠিক মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে সবার আগে স্বীকার করে নিতে হবে, এই ঢাকা, আমাদের প্রিয়তম নগর ঢাকা আসলে চলছে না। এখনই চলছে না, ১০ বছর পরে আরও চলবে না। এখন ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে আমরা নাকানিচুবানি খাচ্ছি, ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টির যে ভবিষ্যদ্বাণী করছে জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক বিজ্ঞানীরা, তাহলে ঢাকা কি প্রাচ্যের ভেনিস হয়ে যাবে? তাহলে বরং ঢাকার রাজপথগুলোকে খালে রূপান্তরিত করে নৌযান নামানোই ভালো।
সমস্যাগুলো আসলে প্রায় সবাই জানেন। দুই মেয়র জানেন, প্রকৌশলীরা জানেন। আমাদের বন্যা প্রবাহী অঞ্চল কারা ভরাট করে, তাও জানা, তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা যাবে না, এটা অবিশ্বাস্য লাগে। আবার বন্যা প্রবাহী অঞ্চলে যদি আবাসন করতেই হয়, পানি নামার জন্য বিকল্প চ্যানেল করে দিয়েও হয়তো তা সম্ভব। কারণ, প্রতিটা সমস্যারই কারিগরি সমাধান আছে। দরকার সমন্বয়। সেটা হতে পারে মেয়রের নেতৃত্বে। আর দরকার হবে ক্ষমতায়িত ও অর্থায়িত টাস্কফোর্স, যারা আবার থাকবে জবাবদিহির মধ্যে। তাদের জানাতে হবে, কাজ কত দূর এগোল। কেন এগোল না।
হাতিরঝিল প্রকল্পের পরে লিখেছিলাম, হাতিরঝিল আমাদের স্পর্ধা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা হাতিরঝিল করতে পারলে ৫৪টা খালও উদ্ধার করতে পারব। দরকার হবে কঠোর সিদ্ধান্ত। কে নেবেন এই সিদ্ধান্ত? আমাদের এই দেশে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছাড়া কিছুই হয় না। একটা সুপার মার্কেটে আগুন লাগলেও টিভির নিচে দেখি স্ক্রলে দেখাচ্ছে, আগুন নেভানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের ক্রিকেট দলের জয়ের পেছনেও থাকে প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ আর প্রণোদনা।
নির্বাচিত মেয়রদের নেতৃত্বে কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সৎ ও যোগ্য মানুষদের দিয়ে ঢাকা বাঁচাও আন্দোলন শুরুর ও সমন্বয়ের নির্দেশনাটাও বোধ করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই আসতে হবে। আর শুধু ঢাকা বাঁচালে তো চলবে না, প্রতিটা জেলা শহর, প্রতিটা থানা শহরকেই গড়ে তুলতে হবে। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ করতে হলে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এবং আবারও বলি, আমাদের নৌ যোগাযোগ ও রেল যোগাযোগের ওপরে গুরুত্ব দিতেই হবে।
ঢাকা ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না। বাংলাদেশ ছেড়েও কোথাও যাচ্ছি না। আমার কাছে ঢাকাই এই পৃথিবীর সবচেয়ে বসবাসের উপযোগী শহর। কোথায় আছে এই রকম বইমেলা, বৈশাখী মেলা, কোথায় পাব পথের ধারের চটপটি-ফুসকা, কোথায় পাব মায়ের ভাইয়ের এত স্নেহ। ঢাকার এক শটা বদনাম করা যাবে, নিন্দা করা যাবে এই দেশেরও, কিন্তু আমি সেসবে কান দিচ্ছি না। কারণ, এই দেশকে, এই শহরকে আমরা ভালোবাসি এবং ভালোবাসা অন্ধ। ‘আমার চোখে তো সকলই শোভন…’।
কিন্তু ভালোবাসা মানে তো কেবল ফেনিল বাক্য রচনা নয়। কর্তব্যও। এই ঢাকার জন্য, চট্টগ্রামের জন্য, এই দেশটার জন্য দূরদর্শীভাবে ভাবতে হবে এবং কাজ শুরু করে দিতে হবে এখনই। ব্রিটিশরা গড়ে দিয়েছিল প্রাচ্যের উদ্যান নগরী ঢাকা (বুদ্ধদেব বসু, আমার যৌবন), ফরাসি উদ্যানবিদ এনে বানানো হয়েছিল রমনা বা মেডিকেলের সামনের শিরীষগাছগুলো, আইয়ুব খানের আমলে হয়েছে শেরেবাংলা নগর, আর আমরা কী করলাম? হাতিরঝিল ছাড়া আমরা যা করেছি, তা হলো, আমরা এই প্রিয় শহরটাকে লুট করেছি, আমরা এর মাটি খেয়ে ফেলছি, নদী খেয়ে ফেলছি, খাল খেয়ে ফেলেছি, জলাধার খেয়ে ফেলেছি, ফুটপাত খেয়ে ফেলেছি।
এর নাম ভালোবাসা নয়। এবার ভালোবেসে কর্তব্য সাধনের সময়।

আনিসুল হক
আনিসুল হক
আনিসুল হক (জন্ম: মার্চ ৪, ১৯৬৫) একজন বাংলাদেশী লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক পদে কর্মরত আছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের সত্য ঘটনা নিয়ে তাঁর লেখা মা বইটি বেশ জনপ্রিয়। [বাংলা ভাষার পাশাপাশি বইটি দিল্লী থেকে ইংরেজি ভাষায় এবং ভুবনেশ্বর থেকে উড়ে ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে । জন্ম[: আনিসুল হকের জন্ম রংপুর বিভাগের নীলফামারীতে। তাঁর পিতার নাম মো. মোফাজ্জল হক এবং মায়ের নাম মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগম। তাঁর স্ত্রীর নাম মেরিনা ইয়াসমিন। শিক্ষাজীবনঃ তিনি রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৮১ সালে এস.এস.সি. এবং রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এইচ.এস.সি. পাস করেন। উভয় পরীক্ষাতেই সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান পান। এসএস সি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় তিনি ৩য় এবং এইচএসসিতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৮ম স্থান লাভ করেন। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেন। কর্মজীবনঃ আনিসুল হক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগে যোগদান করেন। অল্প কিছুদিন চাকরির পরই তা ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় চলে আসেন। তিনি ১৯৮৭ সালে সাপ্তাহিক দেশবন্ধু পত্রিকার সহসম্পাদক, ১৯৮৯ সালে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক খবরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত দৈনিক ভোরের কাগজের সহকারী সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত দৈনিক প্রথম আলোর সাথে যুক্ত আছেন। তাঁর মূল ঝোঁক লেখালেখিতে। পত্রিকায় তিনি নিয়মিত কলাম লেখেন। বুয়েটে পড়ার সময় কবিতার দিকে বেশি ঝোঁক ছিল। পরবর্তীতে এর পাশাপাশি কথাসাহিত্যেও মনোযোগী হন। উপন্যাস, বিদ্রুপ রচনা, নাটক রচনায় প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন। ২০১০ সালে তিনি আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রোগ্রাম (আইডব্লিউপি)কর্মশালায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লেখকদের সাথে যোগ দেন।।তিনি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৭ জন লেখক আইডব্লিউপির কর্মশালায় যোগ দেন।১৯৬৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৩০টি দেশের এক হাজার ২০০ লেখক অংশ নেন। গল্পঃ যে স্বপ্ন দেখতে জানতো, আজকালকার ভালোবাসার গল্প, অসমাপ্ত চুম্বনের ১২ বছর পর। [৬] কবিতাঃ খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে (১৯৮৯), আমি আছি আমার অনলে (১৯৯১), আসলে আয়ুর চেয়ে বড় সাধ তার আকাশ দেখার (১৯৯৫), জলরংপদ্য (২০০২), তোমাকে ভাবনা করি। উপন্যাসঃ তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস মা (২০০৩ সালে প্রকাশিত)। এছাড়া বীর প্রতীকের খোঁজে, নিধুয়া পাথার, আয়েশামঙ্গল, খেয়া, ফাঁদ, বেকারত্বের দিনগুলিতে প্রেম, ভালোবাসা আমি তোমার জন্য কাঁদছি, ফাল্গুন রাতের আঁধারে, আমার একটা দুঃখ আছে, ক্ষুধা এবং ভালোবাসার গল্প, হৃদিতা, সেঁজুতি, তোমার জন্য, ৫১ বর্তী, আবার তোরা কিপ্টা হ,আলো-অন্ধকারে যাই,আমার একটা দু:খ আছে, আয়েশামঙ্গল, বারোটা বাজার আগে প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ব্যঙ্গাত্মক রচনাঃ পত্রিকায় ‘গদ্যকার্টুন’ নামে নিয়মিত ব্যঙ্গাত্মক রচনা লেখেন। এসব লেখা নিয়ে প্রকাশিত বইগুলির মধ্যে কথাকার্টুন, গণতান্ত্রিক ফ্যান্টাসি‌‌, রাজা যায় রানি আসে, ছাগলতন্ত্র, অশ্বডিম্ব, সেই গাধা সেই পানি উল্লেখযোগ্য। নাটকঃ নাট্যকার হিসেবে তিনি ভিন্ন ধাঁচের নাটক উপহার দিয়েছেন। তাঁর রচিত দর্শকনন্দিত টেলিভিশন কাহিনীচিত্রের মাঝে রয়েছে নাল পিরান, করিমন বেওয়া, প্রত্যাবর্তন, সাঁকো, প্রতি চুনিয়া, চড়ুইভাতি, মেগা সিরিয়াল ৫১বর্তী প্রভৃতি। সিনেমার স্ক্রিপ্টঃ মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ব্যাচেলরএবং মেড ইন বাংলাদেশ সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছেন আনিসুল হক। এছাড়া তিনি থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার, টেলিভিশন সিনেমারও স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। পুরস্কারঃ শ্রেষ্ঠ টিভি নাট্যকার হিসেবে পুরস্কার, টেনাশিনাস পদকসহ বেশ কয়েকটা পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন খুলনা রাইটার্স ক্লাব পদক, কবি মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশন পুরস্কার। ২০১২ সালে কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান।