কবিতা

বসন্তের প্রথম লিরিক

দীর্ঘ বিরহ , আমি ছুঁড়ে দিচ্ছি মুষ্ঠিভর ভালোবাসা, আজ
বৃষ্টি নামুক সব ভারতীয় মেয়েদের চোখে,
বৃষ্টি নামুক আজ, গ্রীষ্মপুতনার স্তনে এতটুকু জল নেই
বৃন্তে বিষ ভারি হয়ে আছে ।
যে মেয়েটি কাজল পড়েছে আর যে মেয়েটি মেহেদি রাঙানো হাত
মেলে ধরেছিল, তাদের সবার কষ্টে শিয়ালদা জুড়ে কাল বহুক্ষণ
বন্ধ ছিল বাস; যে মেয়েটি সদ্যযুবতী আর যে মেয়েটি গতকাল
তালাক পেয়েছে; তাদের সবার চোখে বৃষ্টি নামুক আজ, দীর্ঘ বিরহ,
আমি ছুঁড়ে দিচ্ছি মুষ্ঠিভর ভালোবাসা, ফ্লাইওভারের গায়ে
চাপ চাপ রক্ত মুছে দাও ।
এখন এপ্রিল তুমি যে বিদেশী এখানে এনেছ, দেখো রুক্ষতম মাস
স্কট লেন জুড়ে শুধু ঝকমক করে উঠছে গুণ্ডাদের ছুরি, তুমি – যে বিদেশী
এখানে এনেছ। দেখো ব্রিগেড প্যারেড মাঠে পতাকার গালচে পেতে রাখা।
তুমি কখনো ভুলোনা সেই মেয়েটির কথা – মাথায় বোমার দাগ
যে মেয়েটি মুছতে পারেনি, আর যে ছেলেটি বোনের কষ্টে কাল সারারাত
স্লোগান বুনেছে তার ভায়োলিনে, হায় দীর্ঘ বিরহ, আমি
ছুঁড়ে দিচ্ছি মুষ্ঠিভর ভালোবাসা, তারা জল হয়ে, বিরুদ্ধতা হয়ে
ঝরে যাক ভারতীয় মেয়েদের চোখে, আর যে ছেলেটা তাদের পাঁজর খুলে
অস্ত্র গড়েছে আমি তাদের সবার দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছি মুষ্ঠিভর ভালবাসা
দীর্ঘ বিরহ, আমি ছুঁড়ে দিচ্ছি ….. ।

জয়দেব বসু
জয়দেব বসু
১২ মে ১৯৬২ জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। তিনি ছিলেন বাবা-মার জ্যেষ্ঠ সন্তান। পিতা পরিতোষ বসু ছিলেন নড়াইল জেলার সিঙিয়া গ্রামের মানুষ। মাতা বেলা বসু টাঙ্গাইল জেলার সাজানপুর গ্রাম নিবাসী। জয়দেব শিক্ষালাভ করেন পাঠভবন (শান্তিনিকেতন), প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পেশা হিসেবে বেছে নেন অধ্যাপনা। ৫০ বছর বয়সে জয়দেব বসু হারিয়ে যাবেন কেউ ভাবেনি, কেউ কল্পনা করেনি। এ বয়সেও তিনি ছিলেন যেন তারুণ্যে উজ্জ্বল, রঙিন-আলোকময়। তাঁর শৈশব কাটে দার্জ্জিলিং এবং শান্তিনিকেতনে। স্কুল শেষ করে যোগ দেন কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে বাংলা নিয়ে। স্নাতকোত্তর পড়া শেষ করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এর পর তিনি দমদম মোতিঝিল কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত দীর্ঘ কবিতা “মেঘদূত” যা প্রকাশিত হয়েছিল । ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১২ জয়দেব বসু মৃত্যু বরন করেন ।