কবিতা

পিকাসোর জন্য

এই এক ছবি দেখি, দিন রাত দুর্বোধ্য আয়নায়
বিকেলের মতো এক ক্লান্ত নারী রহস্য ভিতরে ;
কিংবা আমাদের মন আছে কিনা, অস্ফুট বার্তায়
প্রশ্ন শুনি যেন ; কিংবা যতটুকু এ হৃদয়ে ধরে
ততটুকু নিতে গিয়ে দেখি ছবি অগাধ গভীর
কোথায় যে নিয়ে যায়? তারপর সকলি নিবিড়
চেতনা চেতনা শুধু! এক ছবি বহু ছবি হয়
তখন কি? তখনো কি নিরুত্তর কিছু প্রশ্ন থাকে?
পৃথিবীর সব নিয়ে, তবু যেন সব পাওয়া নয়
এমনি অভাব?…যারা আয়নার ক্লান্ত মুখ রাখে
তারা তো একটি মেয়ে; তবু তারা কেমন ছড়ায়
সর্বত্র, সর্বত্র তারা অব্যর্থ অস্বস্তি রেখে যায়
চিল ঘরে, রাস্তায়, এভেন্যুয়ে উদ্বাস্তু মিছিলে
অথবা প্রথম-প্রেম-গুঞ্জনে কি বিবাহসভায়!

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবিঃ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি | প্রেম, প্রকৃতি, চার পাশের মানুষ, সামাজিক আন্দোলন, ইত্যাদি তাঁর কবিতার মূল উপকরণ | তাঁর কাব্যকে ঘিরে আছে তীব্র সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা | সমাজতন্ত্রের উপর বিশ্বাস এবং আস্থা তার কবিতা এবং জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে | ওই দৃঢ় বিশ্বাস এর জন্যই তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রত্যখ্য যোগদান, জেল যাত্রা এবং কবিতা | এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর দলের সঙ্গে মত বিরোধ এবং নিজেকে দল থেকে সরিয়ে আনা | তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে - গ্রহচ্যুত (১৯৪২), রাণুর জন্য (১৯৫২), লখিন্দর (১৯৫৬), ভিসা অফিসের সামনে (১৯৬৭), মহাদেবের দুয়ার (১৯৬৭), মানুষের মুখ (১৯৬৯), ভিয়েতনাম : ভারতবর্ষ (১৯৭৪), আমার যজ্ঞের ঘোড়া : জানুয়ারি (১৯৮৫) | এ ছাড়া তিনি অনেক কাব্যগ্রন্থ অনুবাদ করেছেন | তাঁর সম্পাদিত কবিতা বুলেটিনের সংখ্যাও পঁচিশের বেশি | কবির কবিজীবন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরনীয়, কারণ তিনি মূলত ছোট পত্রিকার কবি এবং তাঁর কোনো কবিতা কোনো বড় পত্রিকায় ছাপা হয় নি | কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকা সত্বেও তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন | ক্যানসারে আক্রান্ত অবস্থায়, শেষ শয্যায় অনেক অনুরোধে, তিনি তাঁর দুটি কবিতা একটি প্রতিষ্ঠিত পত্রিকায় ছাপার অনুমতি দিয়েছিলেন | তাঁর কবিতা সংক্ষিপ্ত এবং সংকেতময় | --- উত্স: ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩, ডঃ শর্মিষ্ঠা সেন