প্রথম প্রবাস-২

০৩. ফ্ল্যাটের বসবার ঘরের প্রকান্ড কাঁচমোড়া জানলা দিয়ে চোখে পড়ে একটা বিরাট গাছ। শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে এই পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্টের লোকাল গার্জেনের মতো ঝুঁকে পড়ে এর রক্ষণাবেক্ষণ করছে যেন। বড়ো গাছমাত্রই প্রতিষ্ঠান বিশেষ। এই কুয়াশা-ভেজা দূর দেশের গাছ আর আমাদের দেশের গাছের চেহারায় অমিল থাকলেও চরিত্রে কোনোই অমিল নেই। সেই কোটর, পাখি, […]

প্রথম প্রবাস -৩

০৪. আমরা টবীর খাওয়ার ঘরে বসে প্রাতরাশ খাচ্ছিলাম। প্রাতরাশ খাওয়ার পরই টবী ও স্মিতা দুজনেই আমাকে ভিক্টোরিয়া স্টেশানে ছাড়তে যাবে। সেখান থেকে কসমস ট্যুরস-এর ট্যুর নিয়ে আমি কন্টিনেন্টে যাব। বারো দিনের জন্যে। বেশ রোদ উঠেছে আজ। টবীদের বাড়ির নীচে যেখানে গাড়িগুলো পার্ক করানো থাকে সেখানে ও বাগানে বাচ্চারা খেলছে দৌড়াদৌড়ি করে। তাদের গলার চিকন স্বর […]

প্রথম প্রবাস-৪

০৫. দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর অষ্ট্রিয়ার ন্যাটো কি সেন্টো কোনো জোটেই যোগ দেওয়ার উপায় নেই। তাহলে ভার্সাইলস-এর চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ করে বসতে পারে অস্ট্রিয়াকে। ইনসত্ৰুক জায়গাটা চমৎকার। ইন নদীর উপত্যাকায় এই ইনসব্রুক। ইন নদীর সঙ্গে ইছামতীর তুলনা করা চলে–যদিও চওড়ায় অনেক কম এই নিটোল টলটলে নদী। নদীর ওপর কাঠের সাঁকো। রাজহাঁস চরে বেড়াচ্ছে। […]

হাজারদুয়ারি –১

রান্না হল? প্রায়। ভরত কোথায়? ওর ভাষা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না? না। সারল্য ভাষার বাধা ভেঙে দেয় যে! ভারি সরল ছেলেটি! কোথায় সে? বাগানে আছে বোধহয়। আমাকে একটা জলচৌকি আর হামনদিস্তা এনে দিতে হবে কিন্তু কাল। দেব, দেব। এত দূর নিয়ে এলাম তোমাকে আর এসব তো… বেশিদূর আর কোথায়? মাত্র শচারেক মাইল তো! শ্ৰী ঘাড় […]

হাজারদুয়ারি-২

০৬. অনেক রাতে ফিরল সেদিন গোপেন। কেন এত রাত হল তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করল না শ্রী। গোপেনই বলল, আমার খোঁজ করতে কেউ এসেছিল? কে? কোনো লোক? না তো! শোনো, আজকে কারখানাতে একটা ঘটনা ঘটেছে। কী? তোমাকে জানিয়ে রাখা দরকার। কী, বল না। আমি একজনকে সাসপেণ্ড করেছি তিন মাসের জন্যে। তার নাম রমেন পাল। তো? […]

হাজারদুয়ারি-৩

১১. জিপের কাছে এসে গোপেন বলল, তুমি বাড়ি যাও। আমি একটু যাব বোসদার বাড়ি। আমাকে নিয়ে যাবে না? কলকাতার বোসদা তো? হ্যাঁ। কলকাতার বোসদাই। কিন্তু তুমি গিয়ে কী করবে? ফ্যামিলি তো আনেননি উনি। অন্য একজন কলিগের সঙ্গে ফ্ল্যাটে শেয়ার করে থাকেন। তা ছাড়া, আমরা তাস খেলব। তুমি তো তাস চেনোই না। না। স্বামী স্ত্রীর কিছু […]

হাজারদুয়ারি-৪

১৬. ঢিক-চুঁই-ই-ই-ই-ই.. একটা আওয়াজ হল। এবং আওয়াজটার সঙ্গে সঙ্গেই পাহাড়ি পথের লাল ধুলো যেন পিচকিরির মুখের আবিরের মতো উৎক্ষিপ্ত হয়ে জিপের পেছনে উড়ে গেল। কালু বলল, হল কেলো! যেখানে বাঘের ভয় সেইখানেতেই সন্ধে হয়। বাইধর বিরক্ত মুখে নামল স্টিয়ারিং ছেড়ে। ভ্রূকুঁচকে বলল, আপনাদের নামতে হবে। টায়ার পাংচার হয়েছে। তুমি ভালো মনে আজ সঙ্গী হওনি গোপেনদা। […]

সন্তোষ এবং একটি সেদ্ধ ডিম

এবারে কোথাওই বৃষ্টি নেই। শান্তিনিকেতনেও নয়। শান্তিনিকেতনের বসন্ত ও শীতের মতো। বর্ষাকালটাও সমান উপভোগ্য। এখানে আমার এই পর্ণকুটির বানাবার পর থেকে প্রায় গত বছর দশেক পুজোর লেখালেখি এখানে বর্ষাকালে এসেই সারি। বি এস এন এল এর সার্ভিসের যা অবস্থা হয়েছে ফোন থাকা-না-থাকা একই কথা। তাই ফোনও তুলে নিয়েছি। মালিকে একটি। মোবাইল কিনে দিয়েছি। তাতেই সে […]

একজন ইডিয়টের গল্প

বহুদিন পরে পুরীতে এলাম। এসে পুরী এক্সপ্রেস থেকে নেমে পুরী স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই ধাক্কাটা খেলাম। না, কোনো মানুষ বা জিনিসের সঙ্গে ধাক্কা নয়, ধাক্কাটা নিজের স্মৃতির সঙ্গে। আমরা কামরা থেকে নেমে একটি ব্যাগ কাঁধে তুলে বাইরে যাবার গেট-এর দিকে এগোচ্ছি যখন, তখন ভিড় পাতলা হয়ে গেছে প্ল্যাটফর্মে। অপেক্ষাকৃত অল্পবয়সিরা তাড়াতাড়ি হেঁটে বেরিয়ে গেছেন স্টেশন থেকে। আমার […]

অন্য রকম

সুমিত্রা ফোন করেছিল। বলল, নির্মলদা, অলকাদি এসেছে। কবে? আসলে অলকার নামটাও যেন নির্মলের স্মৃতির অন্ধকার লফট খুঁজে খুবই কষ্ট করে বের করতে হল, কারণ সেখানে এখন অনেকই ঝুল, ধুলো ময়লা এবং পুরোনো সব কিছুকে নির্মমভাবে কুচিয়ে-কাটা নেংটি ইঁদুরের ভিড়। অন্যমনস্কতা কাটিয়ে উঠে বলল, কোথায় আছে ও এখন? সুমিত্রা বলল, মিডেক্স-এ। কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু সুমিত্রা […]