কবিতা

বিজয়ের বিবরণ

একদা আমি ভাবতাম, মানুষ হলো গতি, বেগ ও
আবেগের পুত্র। একদিন এই সূত্র নিয়ে চিন্তা করতে করতে দেখি
আমার চিন্তাসূত্র ছিঁড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে একটি রশ্মির ছটা।
মানুষ আলোরই স্ফুলিঙ্গ বলে। আমি বিশ্বাস করে
ভূপৃষ্ঠে পা রেখে হাঁটতে চেয়েছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে দেখি
আমি একদিন বিশ্বের সমস্ত নগরের ফুটপাথ বেয়ে
চলে এসেছি আমার নিজেরই বাড়িতে।
এই তো আমার ঘর। একটি ত্রিতল ইমারতের ওপরে
এখানে আমি থাকি আর ভাবি আমি তো আর কোনো
বিষয়ের বিবরণ দিতে পারব না। তবে, আমি যা দেখেছি
যা শুনেছি, যা অনুমান ও আস্বাদন করেছি সবটাই আমার
রক্তের তরঙ্গে মিশে মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয়েছে।
আমার অভিজ্ঞতা হলো, আমি আমার অস্তিত্বের বাইরে
পা ফেলতে না পারলেও আমার চিন্তা আমার স্বপ্ন
এবং আমার সাহস আমার আয়তনের চেয়ে অনেক বিস্তৃত।
আমি একটি শস্যক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছি। আমি সেখানে
যেভাবে খুশি আমার চিন্তার বীজ বপন করি।
সেখানে দেখতে পাই কিছুই ছিল না কিন্তু সহসাই
কোথা থেকে যেনো মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে বৃক্ষের সারি।
গাছ.. গাছ.. গাছ…। যেন হাতের মতো শাখা তুলে
আকাশে বাড়িয়ে দিয়েছে সাহস। নিজের অস্তিত্বের ঘোষণা
দিতে সে মেঘকে তার খাদ্য করে তুলেছে। হাওয়াকে করেছে
নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস। এবং বৃষ্টিকে করেছে তার সৃষ্টির ইচ্ছা।
সে বপন করে শস্যক্ষেত্র ইচ্ছেমতো। সে রচনা করে ফসল
সব মিলিয়ে সে ভাবে আমি সমস্ত সৃজন রহস্যের
কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছি। আমি হাত বাড়ালেই ধরতে পারি
প্রেম। আমি ইশারা করলেই নেমে আসে ভালোবাসা।
আমি ডাক দেই আমার নিজের নাম ধরে।
আমার নাম হয়ে যায় আমারই আশা-ভরসা
আমি আমার সাফল্যে সাহসে সরলতায় মুগ্ধ
আমি বলি জয় হোক। অমনি চারদিক থেকে জয়ধ্বনি বেজে ওঠে
আমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকি। যেন সাজানো গোছানো
একটি স্মৃতিস্তম্ভ। মানুষ আমাকে দেখতে জড়ো হয়েছে
আমি তাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই কেবল আশা
কেবল ভরসা এবং জয়ধ্বনি।
তবু আমি তো আমিই। দেখতে অতো ভালো না হলেও
মুখে হাসি বুকে বল এবং দুই চোখে জল নিয়ে হাঁটছি
আমি আমার নাম দিয়েছি বিজয়। আমাকে সবাই
বিজয় বলেই সম্বোধন করে। এতে আমি সহসা
হেসে উঠি। কখনো কাঁদতে কাঁদতে হাসির ছটা
চোখ দিয়ে বেরিয়ে এসে আমার গণ্ডদেশ ভাসিয়ে নেমে যায়।
হায়! একফোঁটা অশ্রুজল কালের কপোল তলে
মুক্তোর মতো জমা হয়ে গেলো। তোমরা কি দেখতে পাও না?

১৪ ডিসেম্বর ২০১৪

 

আল মাহমুদ
আল মাহমুদ
আল মাহমুদ বাংলা ভাষার প্রধানতম আধুনিক কবিদের একজন। ১৯৩০-এর কবিদের হাতে বাংলা কবিতায় যে আধুনিকতার ঊণ্মেষ, তার সাফল্যের ঝাণ্ডা আল মাহমুদ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে অদ্যাবধি তুলনারহিত কৃতিত্বের সঙ্গে বহন ক'রে চলেছেন। রবীন্দ্র-বিরোধী তিরিশের কবিরা বাংলা কবিতার মাস্তুল পশ্চিমের দিকে ঘুরিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন;– আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা কবিতাকে বাংলার ঐতিহ্যে প্রোথিত করেছেন মৌলিক কাব্যভাষার সহযোগে– তাঁর সহযাত্রী শামসুর রাহমান, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের তুলনায় এইখানে তিনি ব্যতিক্রমী ও প্রাগ্রসর। নাগরিক চেতনায় আল মাহমুদ মাটিজ অনুভূতিতে গ্রামীণ শব্দপুঞ্জ, উপমা-উৎপ্রেক্ষা এবং চিত্রকল্প সংশ্লেষ করে আধুনিক বাংলা কবিতার নতুন দিগন্ত রেখায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কথাসাহিত্যে তাঁর মৌলিক শৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ অভ্যূদয়ের পর তিনি দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৯০ দশক থেকে ব্যক্তি জীবনে ইসলামের অনুবর্তী হয়ে তিনি সমালোচনার শিকার হয়েছেন। ==জন্ম== আল মাহমুদ([[১৯৩৬]]-)খ্রিস্টাব্দে [[ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা]]র মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ।তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি। আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। == প্রকাশিত গ্রন্থ == {{div col|3}} * লোক লোকান্তর ([[১৯৬৩]]) * কালের কলস (১৯৬৬) * সোনালী কাবিন ([[১৯৬৬]]) * মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ([[১৯৭৬]]) * আরব্য রজনীর রাজহাঁস * বখতিয়ারের ঘোড়া * Al Mahmud In English * দিনযাপন * দ্বিতীয় ভাংগন * একটি পাখি লেজ ঝোলা * আল মাহমুদরে গল্প * গল্পসমগ্র * প্রেমের গল্প * যেভাবে গড়ে উঠি * কিশোর সমগ্র * কবির আত্নবিশ্বাস * কবিতাসমগ্র * কবিতাসমগ্র-২ * পানকৌড়ির রক্ত * সৌরভের কাছে পরাজিত * গন্ধ বণিক * ময়ূরীর মুখ * না কোন শূণ্যতা মানি না * নদীর ভেতরের নদী * পাখির কাছে , ফুলের কাছে * প্রেম ও ভালোবাসার কবিতা * প্রেম প্রকৃতির দ্রোহ আর প্রার্থনা কবিতা * প্রেমের কবিতা সমগ্র * উপমহাদেশ * বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ * উপন্যাস সমগ্র-১ * উপন্যাস সমগ্র-২ * উপন্যাস সমগ্র-৩ * ত্রিশেরা ==কর্মজীবন== সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে কবি [[ঢাকা]] আসেন [[১৯৫৪]] সালে। সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তিনি পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। [[১৯৫৫]] সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর([[১৯৬৩]]) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস([[১৯৬৬]]),সোনালি কাবিন([[১৯৬৬]]), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো([[১৯৬৯]]) কাব্যগ্রন্থ গুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। [[১৯৭১]] এর মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। [[১৯৭৫]] সালে তার প্রথম ছোট গল্পগ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। [[১৯৯৩]] সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল। আল মাহমুদ সাংবাদিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকাত সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী [[আওয়ামী লীগ]] সরকারের সময় একবার জেল খাটেন । পরে তিনি শিল্পকলা একাডেমীতে যোগদান করেন এবং পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।